বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির

মুসলমানের পরিচয়

ইসলাম অর্থ আÍসমর্পণ। তাই মানুষের মধ্যে যারা এ ইসলামকে কবুল করে বা আলাহর কাছে স¤পূর্ণরুপে নিজেদের আÍসমর্পণ করে তাদের বলা হয় ‘মুসলিম’। কেবল মুসলমানের ঘরে জন্ম হলেই কেউ মুসলমান হয়না, বরং কাফের মুশরিকদের ঘরে জন্ম নিয়েও কেউ যদি الإيمان আনে এবং ইসলামের সব বিধি-বিধান মেনে চলে তবে সেও মুসলিম। মানুষের মধ্যে মুসলিমরা সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি। কুরআনের ভাষায়, “তোমাদেরকে শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে, যেন তোমরা সৎ কাজের আদেশ দাও আর অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখ।“(সূরা- আলে ইমরান-১১০)অন্য স্থানে বলা হয়েছে, “তোমাদেরকে মধ্যমপন্থি জাতি হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে, যেন তোমরা মানুষের জন্য সত্যের সাক্ষ্য হতে পার।“ (সূরা-বাকারা-১৪৩)

কিন্তু

আজ মানুষ ভুলে গেছে তার পরিচয়। মুসলমান বিস্মৃত হয়েছে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য স¤পর্কে। ফলে জলে-স্থলে সর্বত্র চলছে অনাচার, অবিচার ও অশান্তির প্রবল স্রোত। মানুষে মানুষে চলছে হানাহানি, কাটাকাটি, হিংসা-বিদ্বেষ, অসাম্য ও দূর্ভোগ। অসংখ্য বনী আদম অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার অভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরছে। অথচ লক্ষ লক্ষ টন খাদ্য সমুদ্রে ফেলে নষ্ট করা হচ্ছে, পারমানবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতায় ব্যয় হচ্ছে কোটি কোটি ডলার। যাদের মুখে শোনা যায় শান্তির ললিত বাণী তারাই আবার অপরকে দেয় পারমাণবিক বোমার হুমকি। অসহায় মানুষ আলাহর কাছে ফরিয়াদ করছে মুক্তির জন্য। মুসলমানদের অবস্থাতো আরো করুণ; আফগানিস্তান, ফিলিস্তিন, কাশ্মীরসহ বিশ্বের অনেক স্থানে মুসলমানদের রক্ত নিয়ে হোলি খেলছে বেদ্বীনরা। ইরাকের মুসলমানদের উপর চলছে ইহুদীবাদের μীড়নক মার্কিনীদের নেতৃত্বে বিশ্ব ইসলাম বিরোধী শক্তির ভয়াবহ নিষ্ঠুর নির্যাতন। এ ব্যাপারে মুসলমানদের কোন ঐক্যবদ্ধ الافتتاح নেই, নেই কোন কার্যকর পদক্ষেপ। তাই মুসলমানদের বিরুদ্ধে দিন দিন ষড়যন্ত্র তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। অবশ্য ইসলামের বিজয়ের সম্ভাবনাও দিন দিন বাস্তবরূপ লাভ করছে।

একদিন...

সব মানুষকেই মরতে হবে। ফিরে যেতে হবে মহান স্রষ্টার কাছে। কিয়ামাতের প্রবল প্রলয়ে সমস্ত কিছু ধ্বংসের পর মানুষের ভাল-মন্দের বিচারের সময় এসে যাবে। সেদিন যাদের ভাল কাজের পরিমাণ বেশী হবে তারাই মুক্তি পাবে, পুরস্কার হিসেবে পাবে চির শান্তির জান্নাত। আর যাদের মন্দ কাজের পালা ভারী হবে তারা পাবে অবর্ণনীয় আযাবে ভরপুর চির দুঃখের জাহান্নাম। যে যেখানেই যাবে সেখানেই থাকবে চিরদিন, অনন্তকাল। সেদিন অবশ্যই جميعকে দুনিয়ার বর্তমান অবস্থায় তার الافتتاح ও কাজ স¤পর্কে জবাবদিহি করতে হবে।

তাই

আলাহ নিজেই সেদিনের মুক্তির ব্যবস্থা করে রেখেছেন। তাঁর কালামের ভাষায়, ‘তোমরা আলাহর রাস্তায় জান ও মাল দিয়ে লড়াই কর। এটিই হবে তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা বুঝ। তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করা হবে, আর তোমাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে; যার তলদেশে আছে ঝর্ণাধারা।“ (সূরা আ¯ সফ- ১১-১২)

সুতরাং

আজকের এই অবস্থায় আমাদের উচিৎ ইসলাম স¤পর্কে জানা, কুরআন-হাদীস পড়া এবং মানুষের মুক্তির জন্য আলাহর পথে প্রাণান্ত প্রচেষ্টা চালানো, সৎ কাজের আদেশ দেয়া ও অসৎ কাজ হতে বিরত রাখা। কিন্তু এ কাজটি একা একা করা যায়না। এজন্য প্রয়োজন সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা। হযরত উমর রাঃ তাই বলেছেন, ‘দল ছাড়া ইসলাম হয় না।“ আমাদের দেশের অবস্থা বড়ই নাজুক। পৃথিবীর অন্যতম একটি দরিদ্র জনপদ এই দেশ। শতকরা ৪৯ জন মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে বাস করছে। মানুষের জীবনে নেই সুখ, নেই শান্তি, নেই কোন আদর্শের ছবি। শিশু কিশোররাও বেড়ে উঠছে অনৈতিকতার মধ্য দিয়ে। এ অবস্থা চলতে দিলে জাতির ভবিষ্যত গাঢ় অন্ধকারময়। এর হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রয়োজন একদল সচেতন লোকের। তাই এখানেও আলাহর পথে তরুণদের ডাকার জন্য, দেশের ভবিষ্যত নাগরিকদের আদর্শ ও চরিত্রবানরূপে গড়ে তোলার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তরুণ ও মেধাবী ছাত্রদের সংগঠণ- বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।